কাজের জন্য ভারতে ফেরা: চাকরি খোঁজার একটি চেকলিস্ট
কাজের জন্য ভারতে ফেরা সহজ হয় যদি দেশে নামার আগেই চাকরি খোঁজা শুরু করেন। 2 থেকে 3 মাস আগে শুরু করুন, ভারতের রীতি অনুযায়ী রেজুমে মানিয়ে নিন, CTC (কস্ট টু কোম্পানি), নোটিস পিরিয়ড ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কীভাবে কাজ করে তা জেনে নিন, এবং আপনার পছন্দের শহর ও কাজের ধরন ঠিক করুন।
এক নজরে
- যাওয়ার আগেই খোঁজা শুরু করুন, কারণ ইন্টারভিউ দূর থেকেও হতে পারে।
- ভারতের অফারের কাঠামো জানুন: CTC, ভেরিয়েবল বেতন, নোটিস পিরিয়ড।
- যাচাইয়ের জন্য নথি তৈরি রাখুন, বিদেশের কর্মসংস্থানের প্রমাণসহ।
- কর ও বসবাসের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য পরামর্শদাতার পরামর্শ নিন।
- নিয়োগকর্তাদের জিজ্ঞাসা করুন রিমোট বা হাইব্রিড সম্ভব কি না।
ধাপে ধাপে
- লক্ষ্য ঠিক করুন। শহর, পদ, শিল্পক্ষেত্র এবং স্থানীয় না বহুজাতিক নিয়োগকর্তা চান।
- রেজুমে হালনাগাদ করুন। সর্বোচ্চ দুই পাতায় রাখুন; বিদেশের পদগুলো তারিখসহ লিখুন। জিজ্ঞাসা করলে বেতন CTC-র হিসাবে রূপান্তর করে জানান।
- যোগাযোগ বাড়ান। ভারতের প্রাক্তন সহকর্মী, প্রাক্তন ছাত্র ও রিক্রুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- ইন্টারভিউয়ের পরিকল্পনা করুন। অনেক রাউন্ড ভিডিওতে হয়। টাইম জোন মিলিয়ে নিন। দেখুন ভার্চুয়াল ইন্টারভিউয়ের পরামর্শ।
- অফার বুঝে নিন। CTC-তে মাসিক বেতনের চেয়ে বেশি কিছু থাকে। দেখুন CTC বনাম হাতে পাওয়া বেতন।
- যাচাইয়ের নথি তৈরি রাখুন। দেখুন ভারতে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন।
- স্থানান্তরের পরিকল্পনা করুন। যোগদানের তারিখ নির্ভর করে বিদেশের নিয়োগকর্তার কাছে আপনার নোটিসের ওপর। দেখুন নোটিস পিরিয়ড।
কী কী আলাদা হতে পারে
| বিষয় | সাধারণত কী আলাদা |
|---|---|
| বেতনের ভাষা | শুধু বেতন নয়, CTC, এলপিএ (বার্ষিক লাখ টাকা) ও হাতে পাওয়া বেতন বলা হয় |
| নোটিস পিরিয়ড | 30, 60 বা 90 দিন প্রচলিত, চুক্তিতে লেখা থাকে |
| নিয়োগের গতি | একাধিক রাউন্ড, এর মধ্যে CTC ও নোটিস নিয়ে HR রাউন্ড |
| সুবিধা | PF, গ্র্যাচুইটি ও বিমার কাঠামো |
মানিয়ে নেওয়ার মতো একটি সময়সূচি
| কখন | কী করবেন |
|---|---|
| 3 থেকে 4 মাস আগে | শহর ও পদ ঠিক করুন, রেজুমে হালনাগাদ করুন, পরিচিতদের জানান |
| 2 থেকে 3 মাস আগে | আবেদন করুন, জব অ্যালার্ট চালু করুন, টাইম জোন মিলিয়ে ভিডিও ইন্টারভিউ ঠিক করুন |
| 1 থেকে 2 মাস আগে | অফার ও যোগদানের তারিখ নিয়ে দরকষাকষি করুন, বিদেশের নোটিসের শর্ত দেখুন |
| 2 থেকে 4 সপ্তাহ আগে | যাচাইয়ের নথি জোগাড় করুন এবং হ্যান্ডওভার শেষ করুন |
| পৌঁছানোর পর | যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সারুন এবং সব চিঠির কপি রাখুন |
LiveRec-এ আপনি চাকরি খুঁজতে পারেন এবং প্রতিটি লক্ষ্যের খোঁজের জন্য একটি জব অ্যালার্ট তৈরি করতে পারেন। নতুন মিলে যাওয়া চাকরির একটি দৈনিক সারসংক্ষেপ ইমেইল পাবেন। দেখুন জব অ্যালার্ট।
যে নথি জোগাড় করবেন
- বিদেশের নিয়োগকর্তার অফার, কর্মসংস্থান ও প্রস্থানের চিঠি, তারিখসহ।
- সাম্প্রতিক মজুরির স্লিপ, নিজের রেফারেন্সের জন্য রাখা।
- ডিগ্রি সনদ ও মার্কশিট, নাম বদলের প্রমাণ থাকলে সেটিসহ।
- বিদেশ ও ভারতের ঠিকানার প্রমাণ।
- রেফারির যোগাযোগের তথ্য।
ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে বিদেশের কর্মসংস্থানের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে, এবং কিছু বিদেশি নিয়োগকর্তা চিঠি দিতে সময় নেন, তাই আগে থেকে চেয়ে রাখুন।
বেতন নিয়ে কথা বলা
ভারতের নিয়োগকর্তারা সাধারণত বর্তমান CTC, ফিক্সড বেতন ও ভেরিয়েবল বেতন জিজ্ঞাসা করেন। আপনার বেতন অন্য মুদ্রায় হলে অঙ্ক, মুদ্রা এবং তাতে কী কী ধরা আছে তা জানান, আর টাকায় আপনার প্রত্যাশিত CTC বলুন। কোনো অংশের মূল্য কত তা না জানলে সেটা বলুন এবং কাঠামোটি জানতে চান।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- নোটিস পিরিয়ড ও যোগদানের তারিখ না বুঝে অফার নেওয়া।
- ধরে নেওয়া যে বিদেশের পদবি ভারতে একই স্তরের।
- দেশে নামার পরেই শুধু খোঁজা শুরু করা।
- ইন্টারভিউয়ের জন্য টাইম জোন না দেখা।
- পদটি রিমোট, হাইব্রিড না অফিসে, তা জিজ্ঞাসা করতে ভুলে যাওয়া।
অর্থ, কর ও বসবাসের অবস্থা
আপনার কর-বাসিন্দা অবস্থা, বিদেশের অ্যাকাউন্ট ও অবসরের পরিকল্পনা ব্যক্তিগত বিষয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন যোগ্য পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলুন। এই পাতা কর-পরামর্শ দেয় না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বিদেশ থেকে কি আবেদন করতে পারি? হ্যাঁ। অনেক নিয়োগকর্তা অনলাইনে ইন্টারভিউ নেন, তবে তাঁদের আপনার অবস্থান ও উপলব্ধতা জানান।
নিয়োগকর্তারা কি আমার বিদেশের বেতন জানতে চাইবেন? তাঁরা বর্তমান CTC জানতে চাইতে পারেন। সততার সঙ্গে উত্তর দিন এবং প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলুন; দেখুন বেতনের প্রত্যাশা।
আমার কি আলাদা রেজুমে লাগবে? সামান্য বদল কাজে দেয়: ভারতের পদবি, নোটিস পিরিয়ড ও শহরের পছন্দ।
কত আগে শুরু করব? স্থানান্তরের দুই থেকে তিন মাস আগে শুরু করা বাস্তবসম্মত, কারণ নিয়োগে কয়েক রাউন্ড লাগে।
বিদেশ থেকে নিয়োগকর্তারা কোন নথি চান? কর্মসংস্থানের চিঠি, শিক্ষার নথি ও পরিচয়পত্র। রিক্রুটারের কাছে সঠিক তালিকা চেয়ে নিন।
পরবর্তী ধাপ
লক্ষ্য শহর, লক্ষ্য পদ, যোগদানের তারিখ এবং জোগাড় করার নথি নিয়ে এক পাতার একটি পরিকল্পনা লিখুন।
এই পাতা সাধারণ ক্যারিয়ার-তথ্য।